নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ছিঁচকে চোরের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মসজিদের মাইক, বৈদ্যুতিক ফ্যান, পানি উত্তোলনের মোটর, খামারের মুরগি, খাদ্যসামগ্রীর বস্তা থেকে শুরু করে বাড়ির মোবাইল ফোন—কোনো কিছুই যেন নিরাপদ নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের একটি চক্র এসব চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ঈদুল আজহার রাতে মনোহরদী বাজারসংলগ্ন পুরনো মাইক্রোস্ট্যান্ড জামে মসজিদের পানি উত্তোলনের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি হয়ে যায়। একই রাতে খিদিরপুর ইউনিয়নের ডোমনমারা গ্রামের মশ্রব আলীর বাড়ি সংলগ্ন বায়তুল আমান জামে মসজিদের বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া মধ্য ডোমনমারা গ্রামের সরকার বাড়ি মসজিদ থেকে নলকূপের মাথা চুরির ঘটনাও ঘটে।
এদিকে মনতলা এলাকার প্রবাসী আবুল কালামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন, খোঁড়াবাড়ি এলাকার শাহজাহানের বাড়ি এবং আলম বেপারীর বাড়ি থেকে পৃথক ঘটনায় একাধিক মোবাইল ফোন চুরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবুতলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ থেকেও একটি সোলার ব্যাটারি ও একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত ১৬ মে পৌর শহরের হিন্দুপাড়া এলাকায় অশ্বিনী বর্মন, সজল মাস্টার ও ফালানি বর্মনের বাড়ি থেকে একই রাতে তিনটি পানি উত্তোলনের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্ত ও নেশাখোরদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। গত দুই মাসে ২৯টি মামলায় ৪৫ জন মাদক কারবারিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ক্রমবর্ধমান চুরির ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।