মাগুরা সদর উপজেলার একটি গ্রামে মেছো বাঘের দেখা মেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া মাঝিপাড়া এলাকায় বন্যপ্রাণীটি দেখা যাওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে কিছুটা সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে জেলা বন বিভাগ জানিয়েছে, মেছো বাঘ সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে মাঝিপাড়া এলাকার সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে একটি বন্যপ্রাণী দেখতে পান স্থানীয় যুবক ইসরাফিল হোসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণীটির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি দেখার পর গ্রামবাসী প্রাণীটির অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এলাকার প্রধান সড়কে জড়ো হন এবং খোঁজাখুঁজি করেন। তবে ঘন অন্ধকার ও ঝোপঝাড়ের কারণে সে রাতে প্রাণীটির সন্ধান মেলেনি। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, আশপাশের পাটক্ষেত বা ঘন ঝোপঝাড়ে প্রাণীটি সাময়িকভাবে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুর জানান, স্থানীয়দের সরবরাহ করা ভিডিওটি পর্যালোচনা করে প্রাণীটিকে ‘মেছো বাঘ’ (Fishing Cat) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ ও জলাশয়সমৃদ্ধ এলাকায় এখনো এই মেছো বাঘের উপস্থিতি দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, “মেছো বাঘ সাধারণত মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, বরং এরা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ ভুলবশত বা কৌতূহলবশত প্রাণীটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে।” বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বন বিভাগের একটি টিম মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
ভিডিও ধারণকারী ইসরাফিল হোসেন বলেন, “প্রাণীটির গায়ে সুন্দর ডোরাকাটা দাগ থাকায় এটি দেখতে বন্য মনে হয়েছিল। আগেও একবার এই এলাকায় এটি দেখা গেলেও তখন ভিডিও না থাকায় কেউ বিশ্বাস করেনি। এবার ভিডিও থাকায় সবাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছে।”
মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, মেছো বাঘটি শনাক্ত হওয়ার পর তাঁরা নিজেদের শিশু ও গবাদি পশুর নিরাপত্তার স্বার্থে কিছুটা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে শান্ত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীটির পুনরায় দেখা মিললে অবিলম্বে বন বিভাগকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।