লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ৩ minutes ago


পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ পালনে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ লাখেরও বেশি হজযাত্রী। ৯ জিলহজের ভোর থেকেই সাদা ইহরামে লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পবিত্র এই প্রান্তর।

চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে—
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।”

এর বাংলা অর্থ— “আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, নিয়ামত ও সাম্রাজ্য একমাত্র তোমারই।”

হজযাত্রীরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় সময় অতিবাহিত করেন। ইসলামি শরিয়তে ‘উকুফে আরাফা’ হজের মূল রুকন হিসেবে বিবেচিত।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আরাফার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দিনটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইতিহাস অনুযায়ী, ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায়ি ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে তিনি মানবতা, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

দুপুরে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হয়। এ বছর খুতবা দেন মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফা। পরে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করেন।

দিনজুড়ে তালবিয়া, তাকবির ও কান্নাভেজা মোনাজাতে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় আরাফাতজুড়ে। অনেক হজযাত্রী জাবালে রহমতের পাদদেশে অবস্থান করে বিশেষ ইবাদতে অংশ নেন।

মক্কা নগরী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাতের ময়দান মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পুনর্মিলিত হয়েছিলেন।

এর আগে মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন শেষে হজযাত্রীরা আরাফাতে পৌঁছান। সূর্যাস্তের পর তারা মুযদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করে রাতযাপন শেষে মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন।

error: Content is protected !!