সাগর-রুনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২২ জুলাই

আদালত প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ৫৬ minutes ago

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনিসংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পুনরায় পিছিয়ে আগামী ২২ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ আইনি প্রক্রিয়াজনিত কারণে মোট ১২৭ বারের মতো পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানির পর প্রতিবেদন দাখিলের এই নতুন দিন ধার্য করেন।

নথি অনুযায়ী, আজ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক নির্ধারিত সময়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তবে তিনি আইনি নিয়ম মেনে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আদালত তাঁর বক্তব্য আমলে নিয়ে তদন্ত শেষ করার জন্য আগামী ২২ জুলাই নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন।

এই মামলার আসামিরা হলেন—রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সংশ্লিষ্ট বাসভবনের দুই নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। বর্তমানে আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান জামিনে রয়েছেন এবং অপর আসামি পলাশ রুদ্র পাল জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে আটক আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যোষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজ বাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হন। এরপর নিহতের ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করার পর ডিবি রহস্য উদঘাটনে সফল না হওয়ায় পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশনায় একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরও বেগবান করতে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যারা বর্তমানে এই মামলার সামগ্রিক তদন্তভার পরিচালনা করছেন।

error: Content is protected !!