
দেশের সার্বিক উন্নয়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে গতকাল শনিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি বিশেষ বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক পরিকাঠামোগত অধিকারের প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাবেশে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে কর্নেল অলি আহমদ ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের সাহসী অবদান তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে রংপুরের সন্তান আবু সাঈদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার এবং নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য বার্তা দিয়ে গেছে এই নতুন প্রজন্ম।
এলডিপি চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন সমীকরণ ও সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আগমন এবং সম্প্রীতিমূলক বার্তার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রীতির প্রকৃত প্রতিফলন দৃশ্যমান হওয়া উচিত সীমান্ত পরিকাঠামোতে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনীর উপস্থিতি এবং প্রতিনিয়ত পুশইনের মতো ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিমিত হওয়া প্রয়োজন।
পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাথে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর, বিশেষ করে তিস্তা ও ফারাক্কার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় দাবি। তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কৃষির সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো এবং দেশীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে অলি আহমদ জানান, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেশের সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি কিংবা অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয় করার সম্পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্য দেশগুলো যখন নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তখন বাংলাদেশ যেমন সম্মান প্রদর্শন করে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তের প্রতিও আন্তর্জাতিক মহলের সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
বক্তব্যের সমাপনী অংশে তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশে একটি নতুন জমানা বা যুগের সূচনা হয়েছে। দেশের জনগণ এখন অত্যন্ত সচেতন এবং তারা যেকোনো বহিরাগত অন্যায্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। অতীতের দিনগুলোর অবসান ঘটিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা রক্ষায় প্রতিটি নাগরিককে তথ্য, যুক্তি এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত করা হয়।