
পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সচল করার লক্ষ্যে চলমান একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামোগত স্থায়িত্ব রক্ষায় বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। সমসাময়িক টানা ভারী বর্ষণ এবং পাশ্ববর্তী জলাশয়ের পাশে স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল বা প্যালাসাইডিং না থাকায় নির্মাণাধীন সড়কটির একটি অংশের মাটির বাঁধ নরম হয়ে চাকার পরিধির সমান্তরালে নতুন বিন্যাসের সম্মুখীন হয়েছে। আজ সোমবার সকালে সুজানগর পৌর এলাকার মানিকদীর গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সার্বিক স্থায়িত্ব রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ে টেকসই গাইড ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকদীর টু দুর্গাপুর রোড এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে সম্প্রতি এই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রাস্তার একটি বড় অংশজুড়ে ইটের সোলিং ও খোয়া বিছানোর কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে মানিকদীর গোরস্তানের পাশেই একটি গভীর পুকুর বা জলাশয় থাকায় সড়কটির এই অংশটি ভৌগোলিকভাবেই বিশেষ সুরক্ষার দাবি রাখে। গত কয়েকদিনের টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে মাটির বাঁধ নরম হয়ে যাওয়ায় এবং কোনো গাইড ওয়াল না থাকায় রাস্তার একপাশের মাটি পুকুরের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কার্পেটিং ও ইটের খোয়া বিছানো অংশের মাঝ বরাবর কিছুটা চওড়া রেখার সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় রাস্তাটি দিয়ে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত রেখে হালকা যানবাহন চলাচলের মাধ্যমে গ্রামীণ সংযোগ সচল রাখা হয়েছে।
স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “রাস্তাটি তৈরি হওয়ায় আমরা সুজানগর পৌরবাসী অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম। তবে বর্ষার পানির প্রবাহ এবং পুকুরের গভীরতার কারণে এই অংশে একটি শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা প্যালাসাইডিং দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং সড়কটির দীর্ঘমেয়াদি উপযোগিতা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি প্রকৌশল বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। বর্ষার মৌসুম আরও বাড়ার আগেই যেন জরুরি ভিত্তিতে ওই অংশে জিও ব্যাগ ফেলে মাটির ক্ষয় রোধ করা হয় এবং স্থায়ীভাবে আরসিসি গাইড ওয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী করা হয়, সে বিষয়ে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।