পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে জমে উঠতে শুরু করেছে পশুর হাট। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও হাটে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা বা অসুস্থ পশু বিক্রির অপচেষ্টা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা। কোরবানির জন্য একটি সুস্থ, সবল এবং শরিয়তসম্মত পশু কেনা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক কৌশল জানা থাকলে কোরবানি ক্রেতারা সহজেই হাটের অসুস্থ বা ইনজেকশন দেওয়া পশু চিহ্নিত করতে পারবেন।
আচরণ ও চঞ্চলতা পর্যবেক্ষণ:
একটি সুস্থ গরুর প্রথম প্রধান লক্ষণ হলো তার চটপটে আচরণ। সুস্থ পশু সবসময় সতর্ক থাকে, কান ও লেজ নাড়ায় এবং আশপাশে মানুষের উপস্থিতি টের পেলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। অন্যদিকে, স্টেরয়েড বা হরমোন প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা পশু অত্যন্ত অলস ও নিস্তেজ থাকে। এগুলো ঠিকমতো হাঁটতে চায় না, অল্পতেই হাঁপিয়ে পড়ে এবং মাথা নিচু করে ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখ দুটিও থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে ঘোলাটে বা ক্লান্ত।
মাংসের দৃঢ়তা ও আঙুলের পরীক্ষা:
কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে থাকে, যা বাইরে থেকে চকচকে ও মাংসল মনে হতে পারে। এটি পরীক্ষা করার সহজ উপায় হলো গরুর পিঠের বা রানের কোনো মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে জোরে চাপ দেওয়া। যদি চাপ দেওয়া স্থানটি দেবে যায় এবং দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে না এসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে, তবে বুঝতে হবে পশুর শরীরে কৃত্রিম উপায়ে তরল জমানো হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ গরুর মাংসের গঠন সবসময় শক্ত ও টানটান হয় এবং চাপ দিলে তা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নাকের আর্দ্রতা ও জাবর কাটা:
পশুর সুস্থতার আরেকটি বড় নির্দেশক হলো তার নাকের ওপরের কালো অংশ বা মাজল। সুস্থ গরুর নাক সবসময় হালকা ভেজা বা আর্দ্র থাকে, যেন বিন্দু বিন্দু শিশির জমে আছে। যদি কোনো গরুর নাক একদম শুকনো বা অতিরিক্ত লালা-ফেনা ঝরতে দেখা যায়, তবে সেটি অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া, সুস্থ গরু শান্ত অবস্থায় থাকলে নিয়মিত মুখে জাবর কাটে এবং তার সামনে খাবার দিলে খাওয়ার প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ দেখায়।
শারীরিক গঠন ও ধর্মীয় বিধিমালা:
পশু কেনার সময় তার কুঁজ, শিং, ক্ষুর, চোখ ও লেজ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। সুস্থ গরুর পিঠের কুঁজ মোটা ও টানটান থাকে এবং গায়ের চামড়া মসৃণ হয়। শুধু বাহ্যিক স্বাস্থ্যই নয়, পশুটি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানির যোগ্য কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে, যা নিচের পাটির সামনের দুটি স্থায়ী দাঁত দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়। অন্ধত্ব, লেজ বা কান কাটা, কিংবা গুরুতর খুঁড়িয়ে চলা পশুকে কোরবানি থেকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বোপরি, হাটে তাড়াহুড়ো না করে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট পশুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।