১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরও ডুবছে চট্টগ্রাম

ফাহিম মাহামুদ, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ৫৮ minutes ago

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চলমান ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং নাগরিক যাতায়াত স্বাভাবিক করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব কটি সরকারি বিভাগ ও সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিরিক্ত এই পানির চাপে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও ও শুলকবহরসহ নগরের বেশ কিছু নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলমগ্নতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের কিছু অংশ প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মেগা প্রকল্পগুলোর সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন প্রকল্পের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানান, ‘সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পের অধীনে নির্মিত স্লুইস গেট ও রেগুলেটরগুলো বর্তমানে শহরের জমে থাকা পানি নামাতে তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়া বিশ্বের যেকোনো আধুনিক বা পরিকল্পিত শহরের জন্যই একটি বড় পরীক্ষা।

উদ্ভূত এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা কাদা ছোড়াছুড়ি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে চসিক মেয়র বলেন, ‘এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়। একদিনে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে পৃথিবীর যেকোনো বড় শহরেই সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ সচেষ্ট রয়েছি। কোনো সংস্থাকে আলাদাভাবে দোষারোপ না করে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর একযোগে মাঠে থেকে পানি নিষ্কাশন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সাথে সাথেই আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং নাগরিক যাতায়াত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

error: Content is protected !!