
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কৈয়ারবিল-লেমশীখালী সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি পুনরায় সচল করার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ইতিমধ্যে এই সংযোগস্থলে একটি নতুন ও টেকসই সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সরকারি অনুমোদন লাভ করলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সেতুটি নির্মাণ করেছিল। দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির তীব্র চাপের কারণে বর্তমান কাঠামোটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সংযোগ সেতুর ওপর কৈয়ারবিল ও লেমশীখালী অঞ্চলের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন স্বাভাবিক যাতায়াত করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতুটি সচল না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাময়িক বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দের দাবি, এটি শুধু একটি সাধারণ কংক্রিটের সেতু নয়; এটি মূলত কয়েকটি গ্রামের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান প্রাণরেখা। তাই গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এখানে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই নতুন সেতু নির্মাণ করা আবশ্যক।
কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম এই বিষয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বর্তমানে এটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এখানকার স্থানীয় মানুষের সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থার স্বার্থে এবং প্রতিদিনের কষ্ট লাঘব করতে অতি দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা দরকার।”
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে জানান, “স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলজিইডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিজটি আগে থেকেই ব্যবহারের জন্য জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং অতিবর্ষণে সম্প্রতি এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নাগরিকদের সুরক্ষায় এলজিইডি থেকে ব্রিজটি নতুন করে পুন:নির্মাণের জন্য অলরেডি প্রস্তাব দেওয়া আছে। উপরমহল থেকে প্রকল্পটির অনুমোদন হয়ে এলেই দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”