কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ধান কাটাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। ক্ষেতজুড়ে পাকা ধান প্রস্তুত থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে অনেক এলাকায় পাকা ধান ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
জেলার চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, সদর দক্ষিণ, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, বরুড়া ও লাকসামসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক সংকটের প্রভাব দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, আগের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়েছে। তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, গ্রামের অনেক শ্রমিক এখন বিকল্প পেশায় যুক্ত হওয়ায় কৃষিকাজে আগ্রহ কমেছে। কেউ ইটভাটা, নির্মাণকাজ বা গার্মেন্ট খাতে কাজ করছেন, আবার কেউ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন। ফলে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের সংকট আরও বেড়েছে।
মুরাদনগরের এক কৃষক জানান, ধান পুরোপুরি পেকে গেলেও শ্রমিকের অভাবে সময়মতো কাটতে পারছেন না। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে। অন্যদিকে বুড়িচংয়ের এক কৃষক বলেন, ধান চাষের সব ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুমিল্লায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে জেলার কয়েকটি উপজেলার কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গেলে সংকট অনেকটাই কমে আসতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।