কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক: প্রশাসক মোস্তাকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত

দেশ এডিশন ডেস্ক:
প্রকাশ: ৫৩ minutes ago

কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মোস্তাক মিয়া। সেখানে তিনি দাবি করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ থেকে যথাক্রমে ১৫ কোটি ও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।

মোস্তাক মিয়ার এই বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বক্তব্যটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে মনে হতে পারে সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে অর্থগুলো ব্যক্তি নয়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।

হাসনাতের দাবি, মোস্তাক মিয়ার বক্তব্যে দুটি তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। প্রথমত, আলোচিত অর্থ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি; বরং স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা পরিষদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না, কারণ বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাকি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অর্থটি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর বক্তব্য হয়তো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে, অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তাঁর ওই বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে উভয় পক্ষের দাবি যাচাই করা দেশ এডিশনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ, এর উৎস এবং ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

(বিঃদ্রঃ: প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।)

error: Content is protected !!