দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে সীমিত লোডশেডিং থাকলেও পল্লি অঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গ্রামে প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্প ও স্থানীয় ব্যবসা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটের পাশাপাশি কয়লার ঘাটতির কারণে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি, তবুও জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। তবে এই লোডশেডিং সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না—রাজধানী ও জেলা শহরে সীমিত রেখে পল্লি অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।