জাতীয় সংসদে দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিসংখ্যান প্রকাশ

বিশেষ সংসদীয় প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত বিনিয়োগনির্ভর মডেলে রূপান্তর করা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আহরণের পরিধি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক দায়সমূহ সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সরকার। গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দুই সংসদ সদস্যের পৃথক প্রশ্নের জবাবে দেশের সার্বিক আর্থিক রূপরেখা ও নীতিগত পদক্ষেপসমূহ বিশদভাবে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি বৈদেশিক প্রকল্পের উপযোগিতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক মিলিয়ে মোট আর্থিক দায়বদ্ধতার পরিমাণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক খাতের পরিমাণ ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। এই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পোর্টফোলিওকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার ‘মিডিয়াম-টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি’ (এমটিডিএস) গ্রহণ করেছে, যা আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ওপর স্বনির্ভরতা বাড়াতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১০.৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কর ও কর-বহির্ভূত খাত থেকে আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি বিনিয়োগের গতি সচল করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একই সাথে অর্থায়নের খরচ কমাতে সুকুক এবং সম্পদ সিকিউরিটাইজেশনসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় ও বিকল্প অর্থায়ন উপকরণের সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অধিবেশনে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সফল সমাপ্তির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৪.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক দায়ের নিয়মতান্ত্রিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন করেছে। এই সামগ্রিক অঙ্কের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ছিল আসল এবং ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উৎস থেকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বদা কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি এবং সহজ শর্তের প্রস্তাবসমূহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। অর্থমন্ত্রী সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে তার অর্থনৈতিক সুফল ও পুনরুদ্ধার লক্ষ্যমাত্রার সামঞ্জস্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি সরকারি বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারে।

error: Content is protected !!