
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতার দাবিতে মাগুরায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সদস্যরা। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জোর দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর বা দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই ন্যায্য দাবি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও আন্দোলন রাজপথে অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনকারী টেকনিশিয়ানরা জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম, গরুর উন্নত জাত উন্নয়ন এবং পশুপালনের বিভিন্ন আধুনিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে তাদের কোনো স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়নি। এক সময় সরকার মাত্র দুই বছরের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা হারে নামমাত্র সম্মানী প্রদান করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে সেটিও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরণের সরকারি বেতন-ভাতা বা আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি, মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি বাবুল কুমার মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. পিকুল হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অজয় কুমার মিত্র।
এ সময় সাধারণ সদস্যদের মধ্যে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মো. আনিসুর রহমান টিটোসহ সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমিতির নেতারা জোরালো আশা প্রকাশ করে জানান, প্রান্তিক খামারি ও পশুসম্পদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্যথায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কঠোরভাবে চলমান থাকবে।