শিক্ষায় বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মূলধন

আতাউর রহমান:
প্রকাশ: ২৯ minutes ago

দেশের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার স্বার্থে জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকার তালিকায় শিক্ষা ও গবেষণা খাতকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মাস্টার ট্রেইনার ও সমাজচিন্তক আতাউর রহমান। তিনি তাঁর সাম্প্রতিক এক উপসম্পাদকীয় বিশ্লেষণে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণ এবং টেকসই অর্থ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকদের সামনে এক দূরদর্শী দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন পরিকল্পনায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী শিক্ষা ও ডিজিটাল রূপান্তরের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন আর্থিক খাতের সুসংহত অগ্রাধিকার এবং উৎপাদনশীল খাতে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উন্নত রাষ্ট্রসমূহ শিক্ষা ও গবেষণাকে নিছক কোনো সাধারণ ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করে না, বরং একে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলধন হিসেবে গণ্য করে। একজন দক্ষ শিক্ষক, গবেষক কিংবা উদ্ভাবকের পেছনে বর্তমান সময়ে যে পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়, আগামী দশকগুলোতে তার বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হয়।

শিক্ষাবিদ আতাউর রহমান জানান, দেশে নতুন নতুন উচ্চশিক্ষালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, আধুনিক ল্যাবরেটরি, শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রকাশনা বৃদ্ধির পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র সুদৃশ্য ভবন বা পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার মতো জ্ঞানভিত্তিক শক্তি অর্জনই হওয়া উচিত একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমান আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট আলোচনা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ মহল দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিক্রমা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও উৎপাদনশীল খাতের সম্ভাবনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে শিক্ষা-কেন্দ্রিক বিশেষ অংশীদারিত্ব ও ‘ডেবট সোয়াপ’ (Debt Swap) উদ্যোগের নতুন রূপরেখা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐতিহাসিক সুযোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, রাষ্ট্র সংস্কারের চলমান কার্যক্রমে যদি জাতীয় ব্যয়ের দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে একই সূত্রে গাঁথা যায়, তবেই কাঠামোগত সংস্কারের দাবি পূর্ণতা পাবে। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট ফলাফল এবং বাজেটের অগ্রাধিকারে শিক্ষাকে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব, যারা দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

error: Content is protected !!