
দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং প্রধান সমুদ্রবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক সেবা আরও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যৌথ প্রস্তাবনা পেশ করেছে দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠন। সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিক্রমার নিরিখে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং স্টোরেজ চার্জ সংক্রান্ত বিষয়াদির যৌক্তিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে এই বিশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
যৌথভাবে প্রেরিত এই পত্রে স্বাক্ষর করেছেন পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, নিটওয়্যার খাতের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, টেক্সটাইল মিলসের সংগঠন বিটিএমইএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। চিঠির অনুলিপি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকটও পাঠানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ তাঁদের যৌথ পত্রে উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে বন্দর পরিকাঠামো ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। একটি জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী সমাজ একমত পোষণ করেছেন যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ সেবার মান ও প্রাতিষ্ঠানিক পারদর্শিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
সংকট উত্তরণে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো—জরুরিভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে অগ্রাধিকার প্রদান করা। এছাড়া ইয়ার্ডে অবস্থানরত কনটেইনারের পোর্ট রেন্ট ও স্টোরেজ চার্জের যৌক্তিক সমন্বয় বা আংশিক মওকুফ নিশ্চিত করা এবং নতুন কোনো চার্জ আরোপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা। একই সাথে জরুরি ও পচনশীল বাণিজ্যিক সামগ্রী দ্রুত খালাসের জন্য বন্দরে একটি বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ সেবা চালু করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে বহুমাত্রিক স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। বাণিজ্য, অর্থ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘আন্তমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সভাপতিবৃন্দ।
ভবিষ্যতের যেকোনো প্রাকৃতিক ও আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিতে সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ সচল রাখতে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ট্রেড কন্টিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়নের প্রস্তাব এসেছে সংগঠনগুলো থেকে। এর পাশাপাশি টেকনিক্যাল সমাধানের অংশ হিসেবে বন্দরের প্রধান ইয়ার্ডগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধি, আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণ অবগঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা। শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর এই সময়োপযোগী গাইডলাইন ও প্রস্তাবনাকে দেশের শিল্প খাতের টেকসই অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।