টানা দুই দিনে দুই মৃ ত্যু: বিয়ানীবাজারজুড়ে চাঞ্চল্য

দেশএডিশন সিলেট ডেস্ক:
প্রকাশ: ১৫ minutes ago

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় টানা দুই দিনে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ, কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাতেই এমন কিছু অস্বাভাবিক আলামতের কথা সামনে এসেছে, যা স্বাভাবিক আত্মহত্যার ধারণাকে নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। ফলে এলাকাজুড়ে নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের কবরস্থান থেকে অটোরিকশাচালক শামীম আহমদ ধনু (৪৭)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। আগের রাতে তিনি নিজের সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজে রেখে বাড়ি ফেরেন এবং রাতের খাবার শেষে বাইরে বের হন। পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এর আগের দিন, ৩১ মে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সাদিকুল ইসলাম রূপকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই সন্তানের জনক রূপককে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, তার হাত পেছনের দিকে বাঁধা ছিল এবং ফাঁসের গিঁটের অবস্থানও ছিল অস্বাভাবিক। এসব তথ্যকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এসব দাবির সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর ধরন নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক পরীক্ষা, ব্যবহৃত দড়ির বিশ্লেষণ, দেহে প্রতিরোধমূলক আঘাত বা চাপের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদের সর্বশেষ যোগাযোগ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, সম্ভাব্য সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। উভয় ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত ও শান্তিপ্রিয় জনপদ হিসেবে পরিচিত বিয়ানীবাজারে অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকের প্রত্যাশা, গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে পেশাদার তদন্ত, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য।

দুটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তার উত্তর এখন নির্ভর করছে ময়নাতদন্তের ফলাফল, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং তদন্তকারীদের অনুসন্ধানের ওপর।

error: Content is protected !!