
পাবনার সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজাকে গ্রেফতার করেছে সুজানগর থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ও পলাতক থাকার পর অবশেষে গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সুজানগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম রেজা সুজানগর পৌর এলাকার তাঁর নিজ বাসভবন ‘বাগানপাড়া’য় অবস্থান করছেন—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুজানগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশ পুরো বাড়িটি চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সুজানগর থানার ডিউটি অফিসার সাবেক এই মেয়রের গ্রেফতারের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
থানা পুলিশ জানায়, বিগত ২০২০ সালে সুজানগরে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি সহিংস সংঘাত ও মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি ছিলেন রেজাউল করিম রেজা। ওই মামলায় দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলায় পরবর্তীতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং একপর্যায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করে। মূলত আদালতের ওই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
মো. রেজাউল করিম রেজা পাবনার সুজানগর স্থানীয় রাজনীতির একটি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি এর আগে সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সর্বশেষ সুজানগর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান এবং গা-ঢাকা দেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে মেয়রের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সুজানগর পৌরসভার শূন্য পদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।
সুজানগর থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত সাবেক মেয়র রেজাকে আজ দুপুরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে সোপর্দ করার আইনি প্রস্তুতি চলছে।